Home » ফরিদপুরে পুরুষ শূন্য গ্রামে ক্ষেত-ব্যবসা সামলাচ্ছেন নারীরাই

ফরিদপুরে পুরুষ শূন্য গ্রামে ক্ষেত-ব্যবসা সামলাচ্ছেন নারীরাই

কর্তৃক মেহেরপুর রিপোর্ট
141 ভিউজ

ফরিদপুরে পুরুষশূন্য গ্রামে ক্ষেত-ব্যবসা সামলাচ্ছেন নারীরাই
বরকতের সাথে দুই পুলিশের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পুলিশকে কিল ঘুষি মেরে হাতকড়া নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় বরকত।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ধলজুড়ি গ্রাম এখন পুরুষশূন্য। এ গ্রামের কয়েকশ পুরুষ-যুবক-তরুণেরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রামটি পুরুষ শূন্য হওয়ায় নারীরা কাঁধে তুলে নিয়েছেন সংসারের হাল।
পুরুষশূন্য হওয়ায় গ্রামের নারীরা ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। তাছাড়া পুরুষশূন্য হওয়ায় নারীরা শিশু সন্তানদের নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
শুক্রবার (১১ জুন) সরেজমিন ধলঝুড়ি গ্রাম ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। গত ৪ জুন স্থানীয় এক যুবকের হাতে দুই পুলিশ হামলার শিকার হওয়ায় মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ২০০ জনকে। এদের মধ্যে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের অজ্ঞাত হিসাবে দেখানো হয়েছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমানের সাথে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী খালিদ মোশাররফ রঞ্জুর বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে উভয় গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দু পক্ষই থানায় মামলা করে।
গত শুক্রবার (৪ জুন) একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বরকত নামের মানসিক এক রোগীকে আটক করে। আটকের পর বরকত পুলিশের ওপর কিল ঘুষি মেরে হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানার এসআই মঞ্জুর হোসেন ও এএসআই মো. জামালউদ্দিন আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয় বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পুলিশের উপর হামলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়।
ভিডিওটিতে দেখা গেছে, বরকতের সাথে দুই পুলিশের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। এক পর্যায়ে দুই পুলিশকে কিল ঘুষি মেরে হাতকড়া নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় বরকত।
এ ঘটনার পর পুলিশ বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১০০-১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশের ওপর হামলা ও মামলার পর ধলঝুড়ি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামে হানা দিয়ে পুলিশ আটক করে বেশ কয়েকজনকে।
পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মশিউর রহমান বলেন, মানসিক রোগীর সাথে পুলিশের হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের শত শত মানুষকে আসামি করাটা সঠিক হয়নি। মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামটি এখন পুরুষশূন্য। এ ঘটনার সঠিক তদন্তের পাশাপাশি অহেতুক যাতে কোন ব্যক্তি হয়রানি না হয় সেজন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
পাচুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকেসহ অনেক কেই আসামি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনাটি উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকার কারণে বাকি আসামিদের আটক করা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

0 মন্তব্য
0

আরও রিলেটেড পোস্ট

মতামত দিন